Rangpur Medical College, Bangladesh

A Government Medical College in Bangladesh

BLOG PAGE Post New Entry

Relegion -the truth

Posted by Dr. Mujib. Rangpur Medical College, Bangladesh on August 17, 2010 at 3:43 AM

As salamu Alaikum,

Please read the article in The Daily Ittefaque, 17the August 2010

.

জীবন জিজ্ঞাসা : ধর্মকর্মের মর্মকথা

ড. আমিনুল ইসলাম

কেউ কেউ নালিশের সুরে বলে থাকেন: ধর্ম একানত্দই আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে ধর্ম-কর্ম সম্পাদনের ধমর্ীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তির স্বাধীন মতামত ও বিচার-বিশেস্নষণের কোনো অবকাশ নেই। শুধু তা-ই নয়, এ অভিযোগও করা হয় যে, ধর্ম তার অনুসারীদের সংকীর্ণতা ও বিভেদ-বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়, ধর্মের নামে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অনিষ্টসাধনে প্ররোচিত করে। এই অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরম্নতর, কিন্তু এজন্য কি আসলে ধর্ম দায়ী? উত্তর: না। কোনো ধর্মশাস্ত্রে এই ভয়ানক শিৰার নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। তাহলে ধর্মকে কেন্দ্র করে এই অধর্ম কেন?

কথায় বলে, চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। আর তাইতো অপরের অনিষ্ট না করার এবং পুণ্য জীবন-যাপনের যে দ্ব্যর্থহীন ধমর্ীয় তাগিদ, তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে, পবিত্র ধর্মকে কেন্দ্র করে প্রায়শই গড়ে উঠেছে আনত্দ:ধমর্ীয় তিক্ততা ও সহিংসতা। এরজন্য কোনো ধর্ম দায়ী নয়, দায়ী ধর্মকে হীন স্বার্থে ব্যবহারের অভিসন্ধি ও অপপ্রয়াস। যুক্তিবাদী ও জীবনমুখী দর্শন যেমন, প্রকৃত ধর্মও তেমনি বিভেদ নয়, ঐক্যের কথা বলে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষকে মুক্তি ও শানত্দির দিগ্দর্শন দেয়। ধর্ম কখনো যুক্তিহীন বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেয় না, ধর্ম-কর্মকে নিছক প্রাণহীন আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখে না। অন্যকথায়, ধর্ম মানুষের মনের আবেগ-অনুভূতি, বিচারবুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি তথা সমগ্র ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে কিভাবে বিকশিত করতে হয়, তা শেখায়, মানুষকে যথার্থ মনুষ্যত্বের আসনে দেখতে চায়।

যেমন ধরা যাক ইহুদি ধর্মের কথা। এখানে পরিষ্কার নির্দেশ দেয়া হয়েছে: "তোমার কাছে যা ঘৃণ্য (যধঃবভঁষ) অপরের প্রতি কখনো তা করো না। মনে রেখো এটাই আইনের মর্মবাণী, বাদবাকি সবই সেই আইনের টীকা ভাষ্য।" খ্রিস্টধর্মের মূল শিৰাও নিহিত তার চমৎকার কর্মনীতিতে। যিশুখ্রিস্ট নমস্য হয়ে আছেন তাঁর নৈতিক শিৰার জন্য। "অন্যের প্রতি যেমন আচরণ কর, যেমন তুমি অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা কর"- এটিও বাইবেলের এক মহান শিৰা।

ইসলাম ধর্মে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে কর্মনিষ্ঠার ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে, সতর্ক পর্যবেৰণ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে জীবনকে সার্থক করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে (কোরআন ২:২৭০, ৯৬:৫)।

কোরআন কখনো কোনো মুসলমানকে কোনোকিছু নির্বিচারে মেনে নেয়ার কথা বলেনি, বরং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্বাচনের দায়িত্ব ও ৰমতা ন্যসত্দ করেছে ব্যক্তির সুবিবেচনা ও সিদ্ধানত্দের ওপর। মানুষ সিদ্ধানত্দ গ্রহণে স্বাধীন বলেই কোরআন তাকে দায়ী বলে ঘোষণা করেছে তার সিদ্ধানত্দের ফলাফলের জন্য (১৭:৩৬)। কোরআন ঘোষণা করেছে: "সত্য এখন ভ্রানত্দি থেকে সুস্পষ্ট; যে বিশ্বাস করতে চায় তাকে বিশ্বাস করতে দাও। এটা হবে তারই কৃতিত্ব। যে বিশ্বাস করতে চায় না, তাকেও তা করতে দাও। এটা ডেকে আনবে তারই দুর্নাম" (২:২৫৬)। কোরআন জ্ঞানকে তুলনা করেছে আলো ও দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে এবং অজ্ঞতাকে অন্ধকার ও অন্ধত্বের সঙ্গে। জ্ঞানের লৰ্যে নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিকে কোরআন অধিষ্ঠিত করেছে উচ্চতর মর্যাদায়। ইসলামের এই উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি চূর্ণ করে দিয়েছিল অতীতের সবরকম কুসংস্কার। ব্যক্তির সহজাত মর্যাদা ও মুক্তবুদ্ধির প্রতি ইসলামের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়েছিল বিশেষ বংশ বা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী পুরোহিতের ভূমিকা। তাই দেখা যায়, ভালো-মন্দ উচিত-অনুচিত প্রভৃতি নৈতিক ও ধমর্ীয় বিষয় নির্ধারণে ইসলাম কোনো পুরোহিতের কথা বলেনি, বরং সেই দায়িত্ব অর্পণ করেছে বিদ্বান ও বিবেকবান প্রতিটি মুসলমানের নিজের ওপর।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার প্রতি কোরআন-এর এ সমর্থনকেই মহানবী বিবৃত করেছেন তাঁর অমিয় বাণীতে এবং মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করেছেন নির্ভয়ে জ্ঞানানুশীলন ও সত্যানুসন্ধান করতে। তাঁর মতে, জ্ঞান ও সত্যের অনুসন্ধানে যে ব্যক্তি ঘরের বাইরে যায়, সে আলস্নাহর পথে চলে। তাই তাঁর উপদেশ: "জ্ঞান অর্জন কর; যে আলস্নাহর উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করে, সে পুণ্যের কাজ করে; যে জ্ঞান সম্পর্কে কথা বলে, সে আলস্নাহর প্রশংসা করে; যে জ্ঞান অনুসন্ধান করে, সে তাঁর উপাসনা করে।" "বিদ্যা অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নারী ও পুরম্নষের জন্য অবশ্যকর্তব্য।" "বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র।" জ্ঞানহীন মানুষকে মহানবী আখ্যা দিয়েছেন পশুর শামিল বলে। আর তাই তিনি সকলকে তাগিদ দিয়েছেন দোলনা থেকে কবর পর্যনত্দ জ্ঞানের অনুসন্ধান করতে, চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান অর্জন করতে। কোরআন-এর দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ ও সেই মর্মে মহানবীর তাগিদ মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করেছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জ্ঞানানুরাগী ব্যক্তিকে উৎসাহিত ও সহায়তা করায় এবং জ্ঞানের অকৃত্রিম সাধক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পৃথিবীতে একটি অনন্য গৌরবময় স্থান অধিকারে।

[লেখক :দর্শনবিদ, অধ্যাপক (সুপারনিউমেরারি),

দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]


Categories: None

Post a Comment

Oops!

Oops, you forgot something.

Oops!

The words you entered did not match the given text. Please try again.

You must be a member to comment on this page. Sign In or Register

0 Comments